রিকাবী বাজার মুন্সীগঞ্জ জেলার ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিন তীরে অবস্থিত একটি জনবহুল ইউনিয়ন।এই ইউনিয়নে কোন উচ্চ বিদ্যালয় ছিলনা ।
এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা তাই বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থায় অতি কষ্টে আবদুল্লাপুর, বিনোদপুর ও রামপাল উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে যেত ।
ফলে অত্র এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশেষ ভাবে অনুভূত হয়ে আসছিল এবং তারই ফলশ্রুতিতে বিগত ১৯৭৭ ইং ২রা এপ্রিল তারিখে কিছু সংখ্যক বিদ্যোৎসাহী ব্যাক্তির উদ্দোগে ও উৎসাহে এনায়েত নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্টিত হয় ।
সভায় উপস্থিত সূধীবৃন্দ একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করেন এবং এ লক্ষকে সামনে রেখে জ্বনাব হাজী খলিলুর রহমানকে আহব্বায়ক এবং জ্বনাব মোসলেম ব্যাপারীকে যুগ্ন আহব্বায়ক করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয় ।
কমিটির অন্যান্ন সদস্যবৃন্দ ছিলেন।
মরহুম সুলতান ব্যাপারী, মরহুম আহসান উদ্দিন ব্যাপারী, মরহুম আকবর হোসেন মেম্বার, আব্দুল আওয়াল হোসেন ব্যাপারী, কে,এম,শাহজাহান, আব্দুল হামিদ মিয়া ও লাল মিয়া কন্টাক্টর ।
উল্লেখিত কমিটি সব©সম্মতিক্রমে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধন্ত গ্রহন করেন এবং বিদ্যালয়ের নামকরন করা হয় মিরকাদিম উচ্চ বিদ্যালয় ।
স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন জ্বনাব মোহাম্মদ হোসেন বি,এস,সি এবং সব©জ্বনাব এম,এ, খালেক, মোহাম্মদ শাহজালাল, রুহুল আমিন ,কামাল আহমেদ, মওলানা মফিজুল, আবদুর রশিদ মোল্লা, কাজী মহসীন, নাজমা বেগম প্রমূখ বিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাদানের দায়িত্ব গ্রহন করেন ।
বিশেষভাবে স্বরনযোগ্য যে এনায়েত নগর স্বর্ণালী সংঘ তাদের ক্লাব ঘরটি বিদ্যালয়ের অফিস হিসাবে ব্যবহারের জন্য দান করে ।প্রস্তাবিত বিদ্যালয়টি নিজস্ব গৃহ না থাকায় এনায়েত নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২জন ছাত্র ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের শুভ যাত্রা শুরূ হয়
বিগত ১৯৭৭ ইং সালের ৩রা জুন তারিখের পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য জ্বনাব আব্দুল করিম ব্যাপারী, রিকাবী বাজার ইউ,পি, চেয়ারম্যান মরহুম মোঃ মোশারফ হোসেন প্রাক্তন চেয়াম্যান আবু বকর মৃধা, মরহুম হাজী মরন ব্যাপারী, গজনবী ব্যাপারী,
সুতান মিয়া , মোঃ নূরুউদ্দিন মিয়া ,ডাঃ হেদায়েতুল ইসলাম, ইউসুফ মাতবর, জয়নাল মিয়া, মোচন মিয়া, মোঃ জান শরিফ, মোঃ আউয়াল ব্যাপারী, মোঃ হানিফ মুন্সি, নুর ইসলাম মিয়া, আমির হোসেন ব্যাপারী, মোঃ আশরাফ আলী প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের
দোচালা টিনের ঘরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। উক্ত সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর তারিখে বিদ্যালয পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়।কমিটির সভাপতি ছিলেন মোঃ মোসলেম ব্যাপারী, সম্পাদক মোঃ হোসেন, অবিভাবক সদস্য সব©জ্বনাব জিগীর আলী মিয়া,
হাজী হেদায়েত আলী, মোঃ ওসমান গনি, শিক্ষানুরাগী সদস্য জ্বনাব কে,এম, শাহজাহান শিক্ষক প্রতিনিধি এম, এ, খালেক ও খন্দকার রুহুল আমিন । বিদ্যালয়ের নিজস্ব গৃহ ও ইহার স্বীকৃতির জন্য জমির জন্য প্রয়োজন হওয়ায় এনায়েত নগর নিবাসী মরহুম হাজী মরন ব্যাপারী, মরহুম মোহম্মদ ব্যাপারী ,
মরহুম আকবর হোসেন মেম্বার, এবং তাদের পত্নিগন বিদ্যালয়ে জমি দান করেন।উল্লেখ্য মরহুম ইদ্রিস ব্যাপারী জমি উন্নয়নের যাবতীয় খরচ বহন করেন ।
বিদ্যালযের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ও অন্নান্য খরচ নির্বাহের জন্য এলাকার ব্যাক্তিবর্গ মাসিক চাঁদা প্রদানের ব্যাবস্থা করেন ।এভাবে এলাকাবাসীর চাঁদা ও দানে বিদ্যালয়টি ইস্পিত লক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে ।
বিগত ১৯৭৯ইং সনের ২৪শে এপ্রিল তারিখে তৎকালিন মহুকুমা প্রশাসকের সভাপতিত্তে একটি উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয় ।উক্ত বোর্ডের সহ- সভাপতি ছিলেন মরহুম জ্বনাব মোশারফ হোসেন ও সম্পাদক মোঃ হোসেন প্রধান শিক্ষক ।
বোর্ডের অন্যান্ন সদস্যগন ছিলেন সর্বজনাব সিদ্দিকুর রহমান, সংসদ সদস্য, আব্দুল হাই সংসদ সদস্য , সার্কেল অফিসার মুন্সিগঞ্জ,থানা শিক্ষা অফিসার , মজিদ শিকদার , সহকারী প্রকৌশলী, মোসলেম ব্যাপারী, মোঃ আঃ আওয়াল ব্যাপারী,এম,এ হামিদ ব্যাপারী, কে, এম শাহজাহান, হাজী আঃ গনি, হাজী খলিলুর রহমান ,
মরহুম আঃ আজিজ মাষ্টার, মোঃ আশরাফ আলী ,মোঃ সিরাজুল হক, মোঃ নুর ইসলাম, মোঃ সাহাবুদ্দিন মিয়া,রানা দেওয়ানজি, মোঃ হাবিবুর রহমান, হাজী হেদায়েত আলী ও নান্নু মিয়া ।
উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি মরহুম জ্বনাব মোশারফ হোসেনের সহযোগীতায মুন্সীগঞ্জ মহুকুমা প্রশাসক জ্বনাব এম,এ, কুদ্দুস প্রথম সরকরী অনুদান হিসাবে ২০,০০০/ (বিশ হাজার টাকা) প্রদান করেন ।অতঃপর বিদ্যালয়টি ১৯৭৯ইং সালে জুনিয়র হাই স্কুল হিসাবে জনশিক্ষা উপ-পরিচালক, ঢাকা । এ স্বীকৃতি লাভ করে ।
এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ে টিনের ঘরের পরিবর্তে ইহাকে দালান করার উদ্দোগ গ্রহন করেন ।সে উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন করেন । ১৯৭৯ সালে ১৫ই জুলাই তারিখে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার জ্বনাব জানে আলম খান কিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থপন করেন ।
এখানে উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের নির্মান ও ঢালাই করে এলাকাবাসীর সেচ্ছা শ্রমের ভিক্তিতে সমাধা হয় ।১৯৮১ইং সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর নবম শ্রেনী খোলার অনুমতি লাভ করে ।বিদ্যালযে কোন পাঠাগার ছিলনা ।
১৯৮১ ইং সালে জ্বনাব মোঃ আশরাফ আলী পাঠাগারের জন্য দুইশত পুস্তক প্রদান করেন ।বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারের জন্য একই বছর জ্বনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী বৈজ্ঞানিক গবেষনাগারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈÁvনিক যন্ত্রপাতি দান করেন ।
১৯৮২ইং সালের ১৫ই জুন বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোড ঢাকা । এর স্বীকৃতি লাভ করে ।উক্ত সনে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠিত হয় ।উক্ত কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বহী অফিসার, সহ সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান, ডাঃ বিভূরঞ্জন, মোঃ আওয়াল মিয়া , এম,এ হামিদ , আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ হোসেন মাষ্টার ।
বিদ্যালয়ের ছাত্র/ ছাত্রীর সংখা ক্রমাগত হারে বদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যলয়ের ভবন সম্রসারণ প্রয়োজন অপরিহায্য হয়ে দেখা দেয় ।১৯৮৬ইং সালে ২৯শে জানুয়ারী তারিখে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রসাশক জ্বনাব এ,আর খান বিদ্যালয়ের বর্ধিত ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৯১ইং সালের ১৫ই জানুয়ারী তারিখে জ্বনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী উক্ত ভবনের উদ্ভোদন করেন । উক্ত ভবন নির্মানের জন্য জ্বনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী সহ এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তিগন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ।বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারের লক্ষে সরকার বিজ্ঞান শিক্ষা প্রকক্পের আওতায় সরকারী অনুদানে দুই কক্ষ বিশিষ্ঠ একটি বিজ্ঞান ভবন নির্মিত হয় ।
পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তৎকালিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জ্বনাব এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ছাত্রী মিলনায়তন নির্মানের জন্য উপজেলা পরিষদ হতে অনুদান হিসাবে ৫৫,০০০/ টাকা প্রদান করেন ।
১৯৯১ইং সালে বিদ্যালয়ে নতুন কমিটি গঠিত হয় । উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন পদাধিকার বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ মোসলেম ব্যাপারী সদস্য সর্বজনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী, এম,এ সাত্তার,আনোয়ার আলী ব্যাপারী ,ওমর আলী কনট্রাক্টর, আলাউদ্দিন রাহাত ও কে,এম,শাহজাহান ।
ইতিমধ্যে জ্বনাব মোহাম্মদ হোসেন বাবুল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় পদাধিকার বলে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন করে ৩৫,০০০/ টাকা অনুদান হিসাবে প্রদান করেন ।
পরবর্বিতে জ্বনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী, এম,এ সাত্তার,ও ডাঃ হেদায়েতুল ইসলাম সাহেবের ঔকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের কার্য পরিচালনায় নব উদ্দম ও গতি সঞ্চারিত হয় ।
বিদ্যালয়ের ছাত্র / ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগীতার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষে এস,এস.সি পরীক্ষায় কৃতি ছাত্র/ ছাত্রীদের মধ্যে ফারুখ আলী ট্রাষ্টের সৌজন্যে এক কালিন বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেন
জ্বনাব আলহাজ মোঃ আরশাদ আলী এর ঔকান্তিক প্রচেষ্টা ও একক দানে বিদ্যালয়টি এখন দ্বীতল ভবন রুপে প্রতিষ্টা লাভ করে ।বিদ্যালয়ের ভবিষ্যতে সম্প্রসারনের জন্য তিনি বিদ্যালয় সংলগ্ন কিছু জমিও দান করেন ।
এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যপক উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহন করেছেন । তার এ মহানুভবতা ও শিক্ষার প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগের কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে তার পিতা মরহুম আলহাজ আমজাদ আলী সাহেবের নামানুসারে মিরকাদিম হাজী আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় নামে নাম করন করেন ।